খুঁজুন
শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

সিলেটে মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠে বার্ষিক পূজা সম্পন্ন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ৯:০১ অপরাহ্ণ
সিলেটে মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠে বার্ষিক পূজা সম্পন্ন

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিকট অতি পবিত্র ৫১ শক্তিপীঠের অন্যতম মহাপীঠ শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠে ‘শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী দেবী’র বার্ষিক পূজা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই পূজা অনুষ্ঠান সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩০নং ওয়ার্ডের জৈনপুর, দক্ষিণ সুরমায় অবস্থিত মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

২৭ মার্চ শুক্রবার মহানবমীতে সকাল ৮টায় শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী দেবীর বিহিত পূজা, পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, চণ্ডীপাঠ, ভোগরাগ; দুপুর ১২/৫০/৩৭ ঘ. মধ্যে পূর্ণাহুতি যজ্ঞ, দুপুর ১টায় মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।

মহাঅষ্টমীতে বাৎসরিক পূজার দ্বিতীয় দিনে অন্যান্য কর্মসূচির পাশাপাশি বেলা ১২ ঘটিকায় সিলেটের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য সতীতীর্থ মহালক্ষী পীঠস্থান শ্রীহট্ট জৈনপুর শীর্ষ বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী,প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রমের মহারাজ শ্রীমৎ স্বামী চন্দ্রনাথানন্দজী,বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ রামকৃষ্ণ মিশন ও সেবা সমিতির অধ্যক্ষ ও সম্পাদক শ্রীমৎ স্বামী বেদময়ানন্দজী মহারাজ,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সরকারি হাই-কমিশনার শ্রী অনিরুদ্ধ দাস,হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি শ্রী সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু,রাজেশ ভাটিয়া সহকারি সচিব ভারতীয় হাই কমিশন সিলেট,বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোপিকা শ্যাম পুরকায়স্থ চয়ন,জিওটে সংস্কৃত কলেজের একটা দিলীপ কুমার দাস চৌধুরী, দীপঙ্কর ভট্টাচার্য সভাপতি হবিগঞ্জ পুরোহিত মন্ডলী ও সিনিয়র সহ-সভাপতি ব্রাহ্মণ পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি, নিখিল মালাকার সাধারণ সম্পাদক পূজা উদযাপন পরিষদ দক্ষিণ সুরমা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, শিবব্রত ভৌমিক চন্দন সভাপতি পীঠস্থান পরিচালনা কমিটি, অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, জনার্দন চক্রবর্তীর মিন্টু সাধারণ সম্পাদক পীঠস্থান পরিচালনা কমিটি,সঞ্চালনায় সহযোগিতা করেন নিপেষ দেব পীযূষ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আমাদের সিলেট দেশের সবার কাছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত, এখানে আমরা হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান সবাই একসাথে একে অপরের সাথে ভাতৃত্ব বন্ধনে যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছি। তিনি আরও বলেন এই মহাপীঠস্থান মন্দিরের উন্নয়নে সিলেট সিটি কর্পোরেশন আগেও সার্বিক সহযোগিতা করেছে, এখনো আপনারা মন্দিরের উন্নয়নের জন্য যে সকল প্রকল্প হাতে নিয়েছেন , সেগুলোতে ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন এই উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতা করবে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে সিলেট রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রমের মহারাজ শ্রীমৎ স্বামী চন্দ্রনাথানন্দজী বলেন, সনাতন ধর্মালম্বী আপনারা সকলেই আপনার দৈনন্দিন ব্যস্ততার মধ্যেও যখনই সময় পাবেন তখনই এই মহাপীঠ স্থানে আসবেন এবং দেবী সম্মুখে বসে আপনি নিজেকে জানার চেষ্টা করবেন, এতে করে স্রষ্টার সাথে আপনার একটি গভীর সম্পর্ক সৃষ্টি হবে। যখনই আপনি স্রষ্টার নৈকট্য লাভ করতে পারবেন তখনই মানুষে মানুষে ভাতৃত্বের সৃষ্টি হবে তখন একটি সুন্দর সমাজ ও একটি সুন্দর দেশ গঠন হবে। তাই সময় পেলেই এই মহাপীঠস্থানে আসবেন।

সুমন চক্রবর্তী’র বৈদিক মন্ত্র মাধ্যমে সভার সূচনা হয় এবং অধ্যাপক রাকেশ রঞ্জন শর্মা’র বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে সবার সমাপ্তি হয়। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন,দীপক দাস, কৃপেশ পাল,শৈলেন কর, দীপঙ্কর পাল,মিন্টু দাস, রঞ্জিত কর, উজ্জ্বল রঞ্জন চন্দ,লাভলু দেব, পুলক দেব প্রমুখ। ২৮ মার্চ শনিবার দশমী বিহিত পূজা শেষে অনুষ্ঠান।

উল্লেখ্য, সত্য যুগে দক্ষ রাজা কর্তৃক যজ্ঞ অনুষ্ঠানে দেবাদিদেব মহাদেব (জামাতা)-কে আমন্ত্রণ না করায় এবং পতিনিন্দা সহ্য করতে না পারায় দক্ষকন্যা সতীদেবী দেহত্যাগ করলে মহাদেব সেই সংবাদ শুনে মৃত সতীর দেহ কাঁধে নিয়ে প্রলয়নৃত্য শুরু করেন। এ অবস্থা ব্রহ্মাদিসহ দেবগণ উপলব্ধি করে সৃষ্টি রক্ষার জন্য শ্রীশ্রী বিষ্ণুর শরণাপন্ন হলে শ্রীবিষ্ণু তাঁর সুদর্শন চক্র দ্বারা মহাদেবের কাঁধে থাকা সতীদেহকে একান্নটি খণ্ডে খণ্ডিত করে ভূমিতে পতিত করেন এবং মহাদেবকে ধ্বংসলীলা থেকে নিবৃত করেন। সতীদেবীর একান্নটি দেহখণ্ড ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান, তিব্বত ও শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন স্থানে পতিত হয়। এই একান্নটি দেহখণ্ড যেসব স্থানে পতিত হয় সেইসব স্থান একেকটি পীঠস্থান তথা তীর্থস্থান হিসেবে পরিগণিত হয়ে বিভিন্ন নামে পরিচিতি লাভ করে। সিলেট নগর থেকে ৩ কি.মি. দক্ষিণে সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের পশ্চিম পাশে জৈনপুর গ্রামে সত্য যুগের সেই দিনে সতীদেবীর একান্নটি দেহখণ্ডের একটি দেহাংশ (গ্রীবা) পতিত হয়েছিল। ফলে উক্ত স্থানটি গ্রীবা মহাপীঠ নামে পরিচিতি লাভ করে। এখানে অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম ‘শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী’ এবং অনতিদূরে ঈশান কোণে গোটাটিকর গ্রামে ‘সর্বানন্দ ভৈরব’ নামে পীঠরক্ষী মহাদেব শিব অধিষ্ঠিত আছেন।

অতি প্রাচীনকাল থেকে নিত্যপূজাসহ প্রতি বছর শিবচতুর্দশী তিথিতে পীঠ ভৈরব সর্বানন্দ মন্দিরে (শিব বাড়িতে) শিবরাত্রীব্রত ও মেলা অনুষ্ঠিত হয় এবং জৈনপুরস্থ মূল পীঠস্থানে অশোকাযোগে পীঠাধিষ্ঠাত্রী ‘শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী দেবীর’ ৩দিনব্যাপী বার্ষিক পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

শক্তিশালী বাংলাদেশের স্বপ্ন ।। খন্দকার সাহেদ হাসান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ২:০১ অপরাহ্ণ
শক্তিশালী বাংলাদেশের স্বপ্ন ।। খন্দকার সাহেদ হাসান

গড়ে তুলতে হবে অদৃশ্য সামরিক স্থাপনা। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য সামরিক শক্তির বিকল্প নেই। তাই আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে রক্ষা করার জন্য সামরিক শক্তি বাড়ানো খুব জরুরি। এ বিষয়ে জনগণের সচেতন হওয়া উচিত এবং সামরিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারেরও নিজ উদ্যোগে দ্রুত সামরিক শক্তি বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেওয়া একান্ত জরুরি।
আমরা কারও সঙ্গে যুদ্ধ চাই না, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই। কিন্তু কেউ যদি আমাদের ওপর আক্রমণ করে, তবে সঙ্গে সঙ্গে শত্রুর বিষদাঁত সমূলে উপড়ে ফেলে দেওয়ার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এ বিষয়ে সবাইকে আপোষহীন থাকতে হবে, কোনো ধরনের বাধা-বিপত্তি মানা যাবে না।
আমাদের আধুনিক প্রযুক্তি, উচ্চতর প্রশিক্ষণ, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আধুনিক রাডার, বিমান, সাবমেরিন, জ্যামারসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় করতে হবে। পাশাপাশি ট্যাংক, জাহাজ, বিমান এবং বাংকার-বিধ্বংসী শক্তিশালী দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিজ দেশের মাটিতে, এক হাজার ফুট গভীরে অবস্থিত একাধিক কারখানায় তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর প্রধানসহ যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য মাটির ভূগর্ভে এক হাজার ফুট গভীরে আধুনিক একাধিক কমান্ড সেন্টার থাকতে হবে। সেখানে থাকবে অস্ত্রভান্ডার, খাদ্য, পানি, চিকিৎসাব্যবস্থা এবং অস্ত্র উৎপাদনের কারখানা। দীর্ঘ টানেল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নৌ, সেনা ও বিমানবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিজ্ঞানীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

জাতীয় সংসদের আদলে মাটির গভীরে একটি মিনি সংসদ তৈরি করা যেতে পারে। টানেলে দীর্ঘদিন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সিটি থাকতে হবে। এ ধরনের স্থাপনা জেলা, উপজেলা ও বিভাগভিত্তিক বন বিভাগের সংরক্ষিত পাহাড়ের গভীরে অথবা কৌশলগত স্থানে নির্মাণ করা যেতে পারে। পাশাপাশি সেখানে একটি সামরিক গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা প্রয়োজন। গঠন করতে হবে আলাদা রকেট ফোর্স বাহিনী। মাটির ভূগর্ভে এ ধরনের কমপক্ষে দশ হাজার টানেল ও বাংকার নির্মাণ করতে হবে দেশ রক্ষার জন্য। শহরভিত্তিক যেসব সামরিক সদর দপ্তর রয়েছে, সেগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় জনসম্মুখে শুধু দৃশ্যমান থাকবে। কিন্তু যুদ্ধ চলাকালে কৌশলগতভাবে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে দশ হাজার নকল সামরিক স্থাপনা, পুতুল সৈনিক ও প্লাস্টিকের সামরিক সরঞ্জাম স্থাপন করতে হবে। যেমন—সাগরে প্লাস্টিকের যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন ও ফ্রিগেট দিয়ে সাজিয়ে রাখা হবে একাধিক নকল সামরিক ঘাঁটি। সেখানে বিমান, কামান, ট্যাংকসহ নানা ধরনের নকল সামরিক স্থাপনা থাকবে। এগুলো তৈরি করা হবে শুধু শত্রুকে বিভ্রান্ত করার জন্য। এতে শত্রুপক্ষের বিপুল সামরিক শক্তি সহজেই ধ্বংস করা সম্ভব হতে পারে।
এ ছাড়া সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য বিভাগ, জেলা ও উপজেলাভিত্তিক যেসব ভবন নির্মাণ করা হবে, সেগুলোর নিচে বা আশপাশে বাধ্যতামূলকভাবে কংক্রিটের বাংকার নির্মাণ করতে হবে। এতে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির সংখ্যা কমে আসবে। হঠাৎ যুদ্ধ শুরু হলে এসব স্থাপনা সহজে তৈরি করা সম্ভব নয়। তাই এগুলো আগে থেকেই প্রস্তুত করে রাখতে হবে। একজন দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে দেশ রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব সরকারের। তাই এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারকে উদ্বুদ্ধ করা জনগণের দায়িত্ব। এখানে আমি আমার বৃহত্তর সামরিক পরিকল্পনার একটি ক্ষুদ্র অংশ তুলে ধরলাম।
— ইউরোপপ্রবাসী লেখক ও সামরিক গবেষক খন্দকার সাহেদ হাসান।

ত্যাগ ও সংগ্রামের স্বীকৃতি মিলবে? সিলেটে ছাত্রদলের নেতৃত্বে তীব্র প্রতিযোগিতা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ণ
ত্যাগ ও সংগ্রামের স্বীকৃতি মিলবে? সিলেটে ছাত্রদলের নেতৃত্বে তীব্র প্রতিযোগিতা

দীর্ঘ চরাই-উতরাই, দমন-পীড়ন আর প্রতিকূল সময় পেরিয়ে অবশেষে নতুন আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটি। সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকা রাখার পর আবারও সংগঠনটি ফিরে আসছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। নতুন কমিটি গঠনের সম্ভাবনাকে ঘিরে এখন সর্বত্র চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
জানা যায়, ২০১৮ সালে গঠিত আংশিক কমিটি এবং ২০২১ সালে অনুমোদিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতার কঠিন প্রেক্ষাপটে নতুন নেতৃত্ব আসেনি এতদিন। ফলে তৃণমূলের মধ্যে জমে ছিল এক ধরনের অপেক্ষা-যেন সঠিক সময়ের অপেক্ষা। সেই সময়টিই যেন এসেছে এখন।
এক সময় স্থবির হয়ে পড়া সংগঠনটি নানা সংকট, হামলা-মামলা ও রাজনৈতিক চাপের মধ্য দিয়ে টিকে ছিল কেবল ত্যাগী নেতাকর্মীদের দৃঢ়তায়। দীর্ঘদিন নতুন কমিটি না হওয়ায় হতাশা তৈরি হলেও সেই অন্ধকার যেন ভেঙেছে আন্দোলনের উত্তাপে। বিশেষ করে জুলাইয়ের গণআন্দোলনে মাঠে সক্রিয় উপস্থিতি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নতুন আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছে।
এখন চায়ের টেবিল থেকে ক্যাম্পাস, আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সবখানেই সম্ভাব্য কমিটি নিয়ে চলছে বিশ্লেষণ, হিসাব-নিকাশ আর নানামুখী আলোচনা। পদপ্রত্যাশী নেতাদের সমর্থকরাও বসে নেই। তারা তুলে ধরছেন নিজেদের প্রার্থীর ত্যাগ, সাহসিকতা আর আন্দোলনের ইতিহাস।
নতুন কমিটিকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিযোগিতা। আলোচনায় রয়েছেন একাধিক পরিচিত মুখ। যারা বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন সামনের সারিতে। কেউ হামলার শিকার হয়েছেন, কেউ কারাবরণ করেছেন, আবার কেউ নেতৃত্ব দিয়েছেন কঠিন সময়ের কর্মসূচিতে।
প্রার্থীদের বক্তব্যে উঠে আসছে দুঃসময়ের গল্প, সাহসিকতার স্মৃতি এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা। তাদের প্রত্যাশা- এইবার মূল্যায়ন হবে ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার ভিত্তিতে।
তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা মাঠে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, ঝুঁকি নিয়ে সংগঠনকে সচল রেখেছেন। তাদেরই সামনে আনা উচিত।

সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য আলোচনায় রয়েছেন নতুন কমিটির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন: জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সামাদ লস্কর মুনিম, মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল ইসলাম, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক আজহার আলী অনিক, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক শহিদুল ইসলাম অপু, মহানগর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন, সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক সেলিম আহমদ সাগর, মদনমোহন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক আফজাল হোসেন, সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক তানভীর আহমদ খান, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক জহিরুল ইসলাম আলাল, জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক খালেদুর রহমান সানি, মহানগর ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক মাহবুব হোসেন এবং মদন মোহন কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাহান আল মাহমুদ খান।

সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নতুন কমিটিকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে তীব্র প্রতিযোগিতা। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা মোকাবিলা এবং সংগঠনের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা- এসব বিষয়কে সামনে এনে নিজেদের যোগ্যতার বার্তা দিচ্ছেন নেতারা। তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে দুঃসময়ের সাহসিকতা, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতে সংগঠনকে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়। তৃণমূলের প্রত্যাশাও এমন নেতৃত্ব, যারা মাঠপর্যায়ে পরীক্ষিত এবং সংগঠনের জন্য নিবেদিত।

জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সামাদ লস্কর মুনিম।

জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সামাদ লস্কর মুনিম জানান, ছাত্ররাজনীতির কারণে তাকে বারবার হামলার মুখে পড়তে হয়েছে, এমনকি তার পরিবারও রেহাই পায়নি। তবুও তিনি সংগঠন থেকে সরে যাননি। তার মতে, “ত্যাগ ও ধারাবাহিকতাই একজন প্রকৃত নেতার পরিচয়।”

মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল ইসলাম

মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল ইসলাম তার রাজনৈতিক জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, বিগত সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে একাধিক মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন তিনি। ২০১৮ সালে দেশব্যাপী দমন-পীড়নের সময় তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং জামিনে থাকার পরও পুনরায় আটক করে রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রায় দুই মাসেরও বেশি সময় কারাবন্দী থাকতে হয়েছে। তিনি বলেন, এসব অভিজ্ঞতা তার রাজনৈতিক জীবনকে আরও দৃঢ় করেছে এবং সংগঠনের প্রতি তার অঙ্গীকারকে শক্তিশালী করেছে।

এমসি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক সেলিম আহমদ সাগর

এমসি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক সেলিম আহমদ সাগর তার বক্তব্যে নিজেকে একজন পরীক্ষিত ও মাঠপর্যায়ের সংগঠক হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “দলের দুঃসময়ে ক্যাম্পাস রাজনীতি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এমসি কলেজ ও টিলাগড় এলাকায় প্রতিনিয়ত হামলা-মামলার ঝুঁকি থাকলেও আমি দায়িত্ব পালন থেকে সরে আসিনি। আহ্বায়ক হিসেবে প্রতিটি আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে কর্মীদের সঙ্গে মাঠে থেকেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতিকে নিয়ে এসে দীর্ঘ ২১ বছর পর এমসি কলেজে সম্মেলন আয়োজন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে সক্ষম হই। এই পুরো সময়জুড়ে নানা চাপ ও ঝুঁকির মধ্যে থেকেও সংগঠনকে ধরে রেখেছি। আমার কাছে পদ নয়, দায়িত্বই মুখ্য-সংগঠনের প্রতিটি কর্মীর আস্থা অর্জন এবং একটি শক্তিশালী ইউনিট গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।”

নতুন কমিটি গঠনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই চলমান রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, খুব শিগগিরই ত্যাগী, নির্যাতিত ও পরীক্ষিত নেতাদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর কমিটি ঘোষণা করা হবে।

গোয়াইনঘাটে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক মাওলানা রশীদ আহমদকে সংবর্ধনা প্রদান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
গোয়াইনঘাটে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক মাওলানা রশীদ আহমদকে সংবর্ধনা প্রদান

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দিরগাঁও এলাকায় অবস্থিত জামিয়া ইসলামিয়া দারুস সালাম দারুল হাদীস (মাদরাসা ও এতিমখানা)-এ আগমন উপলক্ষে শুরা কমিটির সহ-সভাপতি মাওলানা রশীদ আহমদ (দা.বা.)-কে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মাদরাসার পক্ষ থেকে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। তিনি মরহুম মাওলানা আব্দুল মতিন নন্দিরগ্রামী (রহ.)-এর সন্তান এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ও “ইয়র্ক বাংলা”র সম্পাদক হিসেবেও পরিচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও মুহতামিম শায়খ রফীক্ব আহমদ মহল্লী (দা.বা.)। সঞ্চালনা করেন মাদরাসার সহ-শিক্ষা সচিব ও মুহাদ্দিস মাওলানা শামীম আহমদ মেঘারগ্রামী (হাফি.)।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নায়িবে মুহতামিম মাওলানা ফয়েজ আহমদ (হাফি.), নায়িবে শায়খুল হাদীস মুফতী নাসির উদ্দিন তোয়াকুলী (দা.বা.), মুহাদ্দিস মাওলানা বদরুল ইসলাম তুকুইরী (দা.বা.), মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসউদ (হাফি.)সহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।

এছাড়াও সহকারী শিক্ষক মাওলানা মুসা আল মারুফ (হাফি.), মাওলানা জাকির হোসেন (হাফি.), মাওলানা সাফওয়ান আহমদ সুলতানপুরী (দা.বা.), মাওলানা কামরান আহমদ সুন্দাউরী (হাফি.), মাওলানা আনওয়ার হুসাইন (হাফি.) এবং মরহুম মাওলানা আব্দুল মতীন (রহ.)-এর কনিষ্ঠ সন্তান মুহাম্মদ সালিক আহমদসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

শেষে মাওলানা রশীদ আহমদ (দা.বা.)-এর দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি হয়।